Saturday, 1 November 2014

 মায়ের চোখে জল

মাগো-  বল মা, আমায় বল,
মা তোর চোখে কেন জল,
     নর মুণ্ডমালা কেন মা তোর গলে?
তুই যে মা চণ্ডিকা কালী,
খড়্গধারিণী মা নৃমুণ্ডমালী,
        শিব কেন মা আছে শুয়ে তোর ঐ চরণতলে?
সাজিয়েছি মা বরণডালা,
রক্তজবা ফুলের মালা,
       জ্বলে দীপ, জয়ঢাক আর কাঁসরঘণ্টা বাজে।
লোল জিহ্বা রসনা মেলে,
দু’নয়নে বহ্নিশিখা জ্বেলে,
      খড়্গহাতে কেন মা তুই আছিস মন্দির মাঝে?
করুণাময়ী তুই যদি মা,
তুই কেন মা দিগ্ বসনা,
       বল কেন মা দিয়েছিস এই শাস্ত্র মতে বিধান?
বল মা কেন তোর মন্দিরে,
ছাগ পশুর লাল রক্ত ঝরে,
      বন্ধ কর মা পশুহত্যা, মন্দিরে পাঁঠা বলিদান।
যূপকাষ্ঠে ছাগপশু হত্যা,
বলি বিনা তোর পূজা মিথ্যা,
      পশুরক্তে বল মা কেন তোর পূজা হয়?
বল মা এবার বলিহীন হবে পূজা,
সেই পূজা তো মা তোর আসল পূজা
    বল মা তুই পশুরক্তে কভু মাতৃপূজা নয়,
দে মা বরাভয়, রাখিস মা অভয়।
ভক্তিভরে করলে পূজা করবি বিশ্বজয়।
      পশুরক্তে দেবীপূজা নয়, জয় তারা মায়ের জয়।
জয় মা ভবানী জগজ্জননী কালী মায়ের জয়।
জয় কালী জয় তারা বল, কাটবে মৃত্যুভয়।
      নয়ন জলে করলে পূজা তা নিয়েই দেবী তুষ্ট হয়।

Monday, 20 October 2014

মহাতীর্থ তারাপীঠ

মহাতীর্থ পূণ্যতীর্থ দেবী পীঠস্থান
বীরভূম জেলাস্থিত তারাপীঠ নাম।
উর্দ্ধোগামী পূন্যোতোয়া বহিছে দ্বারকা
সম্মুখে শ্মশান ঘাট নির্জন এলাকা।

সাধক তান্ত্রিক যত কাপালিকগণ
সিদ্ধাসনে বসি জপ করে অগণন।
চিত্ত হয় ভয়শূণ্য আসিয়া শ্মশানে
জয়তারা বলে যদি ডাক ভক্তি মনে।

চতুর্দিক মুখরিত দেবী  জয়গানে।
মায়ের মন্দিরে ভিড় দেবী দরশনে।
ধূপদীপ, ফলমূল, প্রসাদের থালা,
করয়ে প্রদান সবে রক্তজবা মালা।

বামদেব হেথা আসি করিয়া সাধনা।
বামাক্ষ্যাপা নামে খ্যাত করি আরাধনা।








দেবী আগমনী

দেবী আসিছে তাই বাতাসে শিহরণ
দেবী আসিছে তাই শীতল সমীরণ।
দেবী আসিছে তাই দিগন্তে পূর্বাভাস
দেবী আসিছে তাই মেঘমুক্ত আকাশ।

আসিছে কালরাত্রি নামিছে অন্ধকার
চতুর্দিকে জ্বলিছে দীপমালার সার।
জয়গানে মুখরিত আকাশ বাতাস
বাধার কারা প্রাচীর করে হাহুতাশ।

জোছনা মরে গেছে আকাশে চাঁদ ওঠে
প্রিয় হারিয়ে গেছে গোলাপ ফুল ফোটে।
দেবীর জয়গানে বাজিছে জয়ঢাক,
বাজে কাঁসর ঘণ্টা, বন্ধন খুলে যাক।

এসো মাগো এসো দেবী এ বিশ্বভুবনে,

প্রণতি জানাই মাগো তোমার চরণে।

Tuesday, 14 October 2014


দেবী স্তুতি

জয়ন্তী মঙ্গলা কালী ভদ্রকালী কপালিনী
দুর্গা শিবা ক্ষমাধাত্রী স্বাহা স্বধা নমোহস্তুতে।
কালী করালবদনী মা, তারা তারকব্রহ্মময়ী।
হে দেবি! তুমি এসো, শঙ্খ চক্র গদা
খড়্গধারিণী কালী কপালিনী--
মা ছিন্নমস্তা। তুমি নেমে এসো মা
এ ধরায় নমমুণ্ডমালিনী রুপে।
অশুভ শক্তির বিনাশ কারিনী দেবী
তোমায় নতজানু হয়ে প্রণাম করি।
তুমি জাগো মা, তুমি না জাগলে
তোমার সন্তুানকুল ঘুমিয়ে পড়বে।
সন্তানকে অভয় দাও মা কালিকে।
ওঁ করাল বদনা ঘোরাং মুক্তকেশী চতুর্ভূজা,
কালিকাং দক্ষিণা দিব্যাং মুণ্ডমালা বিভুষিতাং।
ওঁ হ্রীং কালিকায়ৈ নমঃ ।

Friday, 10 October 2014

আশায় বাঁধি খেলাঘর

এই পৃথিবীটা এক মহা-শ্মশান
জীবননদীর ঘুর্ণিপাকে হেথা আসে ঝড় তুফান
মিথ্যা আশায় বাঁধি খেলাঘর,
হেথা বারে বারে দেয় হানা সর্বনাশা ঝড়
সাজানো বাগান হেথা যায় শুকিয়ে,
ভালবাসার ফুলগুলো একটি একটি করে ঝরে গিয়ে,
অঝোর ধারায় কাঁদছে, অন্ধকারে মুখ লুকিয়ে
বঞ্চনার কুঁড়িগুলো ক্ষোভে, দুঃখে
আর অভিমানে একটি একটি করে
আধ ফোটা অবস্থায় অবশেষে যায় ঝরে
বাগানে গোলাপের ডালগুলো ভেঙে গিয়ে
চির অভিমান নিয়ে মাথা নোয়ায়
বেদনার বালুচরে বাঁধা সময়ের নৌকা
আনমনে বয়ে চলে একা একা
নিয়তির মিথ্যা আশায় বাঁধা খেলাঘরে
আজও ভালবাসার লুকোচুরি খেলা চলে

সুরের আকাশে হারানো সুর

নিঝ্ঝুম রাতে
আকাশের চাঁদ
                   জোছনা দেয় ছড়িয়ে
লক্ষ তারা হাসে
আকাশের গায়ে
                    হৃদয় রাখে ভরিয়ে
সময়ের নদী
হয়ে বেগবতী
                    কুলু কুলু বয়ে চলে,
থেমে গেছে হেথা
ব্যস্ত ঘড়ির কাঁটা,
                    সময় কথা বলে
সুরের আকাশে হেথায়
হৃদয়ের ছিন্ন বীনায়,
                   হারানো সুর মনে পড়ে
হৃদয় বীনার তারে জোড়া
শিশিরে ভেজা কাগজে মোড়া

                   ভালবাসার পাখনা মেলে ওড়ে